| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

গৃহকর্মী থেকে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী: খালেদা জিয়ার ছায়াসঙ্গী ফাতেমা

রিপোর্টারের নামঃ
  • আপডেট টাইম : 03-01-2026 ইং
  • 166651 বার পঠিত
গৃহকর্মী থেকে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী: খালেদা জিয়ার ছায়াসঙ্গী ফাতেমা
ছবির ক্যাপশন: দুঃসময়ে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন ফাতেমা—গৃহকর্মী থেকে খালেদা জিয়ার অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী।

গৃহকর্মী থেকে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী: খালেদা জিয়ার ছায়াসঙ্গী ফাতেমা

 আলোচনার মঞ্চে ছিলেন নেত্রী, ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়েছে রাজনীতি। কিন্তু সেই ইতিহাসের ছায়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন এক নীরব নারী—ফাতেমা বেগম। গৃহকর্মীর পরিচয় ছাপিয়ে যিনি হয়ে উঠেছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী, দুঃসময়ের নির্ভরতা।

রাজনীতির ইতিহাস সাধারণত লেখা হয় ক্ষমতা, আন্দোলন, কারাবরণ আর প্রত্যাবর্তনের গল্পে। কিন্তু সেই গল্পের আড়ালে থেকে যায় কিছু নাম—যারা আলো চান না, দাবি করেন না কোনো স্বীকৃতি। বেগম খালেদা জিয়ার জীবনে তেমনই এক নীরব নাম ফাতেমা বেগম।

দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ছিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী। গৃহবন্দিত্বের দীর্ঘ দিন, কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ, হাসপাতালের নিঃসঙ্গ রাত কিংবা বিদেশ সফরের নিরব করিডর—সবখানেই নিঃশব্দ উপস্থিতি ছিল তার।

দুঃখ দিয়ে গড়া এক জীবন

ফাতেমার জন্ম ভোলার সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের শাহ-মাদার গ্রামে। বাবা রফিকুল ইসলাম, মা মালেকা বেগম। পাঁচ সন্তানের সংসারে বড় মেয়ে হিসেবে দায়িত্ব আসে খুব অল্প বয়সেই।

কৃষক মো. হারুন লাহাড়ির সঙ্গে বিয়ের পর মেঘনার চরে শুরু হয় তার সংসারজীবন। ঘরে আসে এক ছেলে ও এক মেয়ে। কিন্তু ২০০৮ সালে, ছেলের বয়স যখন মাত্র দুই বছর—হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান স্বামী। মুহূর্তেই বদলে যায় জীবনের সব হিসাব।

স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের নিয়ে ফিরে যান বাবার বাড়িতে। মুদি দোকানি বাবার সামান্য আয়ে সংসার চলছিল না। তখন কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্তানদের গ্রামে রেখে কাজের সন্ধানে ঢাকায় পাড়ি জমান ফাতেমা।

ফিরোজায় শুরু ছায়ার জীবন

২০০৯ সালে পূর্বপরিচয়ের সূত্রে তিনি কাজ পান খালেদা জিয়ার বাসভবনে। সেখান থেকেই শুরু হয় এক দীর্ঘ সহযাত্রা—যা সময়ের সঙ্গে দায়িত্ব থেকে সম্পর্কের রূপ নেয়।

ওষুধ খাওয়ানো, হাত ধরে হাঁটানো, শারীরিক দুর্বলতায় পাশে থাকা—এসব তার কাছে ছিল নিছক কাজ নয়, ছিল দায়িত্বের বন্ধন। রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এক নারীর নীরব সঙ্গী হয়ে ওঠেন তিনি।

ইতিহাসে ধরা পড়া এক মুহূর্ত

২০১৪ সালের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’। গুলশানের বাসভবন ফিরোজার সামনে বালুভর্তি ট্রাকে অবরুদ্ধ পথ। বেরোতে না পেরে দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন খালেদা জিয়া। শরীর সামলাতে পারছেন না।

ঠিক তখন ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়ে এক দৃশ্য—ফাতেমা শক্ত করে ধরে আছেন তার হাত। উত্তাল রাজনীতির মাঝখানে মানবিকতার এক স্থির ছবি।

কারাগারেও একা হতে দেননি

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে আইনজীবীদের আবেদনে গৃহকর্মী হিসেবে তার সঙ্গে থাকার অনুমতি পান ফাতেমা। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়াই তিনি স্বেচ্ছায় প্রবেশ করেন কারাগারে। কারণ তিনি জানতেন, এই সময় একা থাকা মানে ভেঙে পড়া।

করোনা আর হাসপাতালের দিনগুলো

২০২১ সালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে খালেদা জিয়া দীর্ঘ ৫৩ দিন হাসপাতালে ছিলেন। যখন মানুষ প্রিয়জনের কাছেও যেতে ভয় পাচ্ছিল, তখন ফাতেমা ছিলেন অবিচল। সেবিকা হয়ে, সাহস হয়ে, ছায়া হয়ে।

শেষ পর্যন্ত ছায়া

লন্ডনে উন্নত চিকিৎসার সময়ও তিনি ছিলেন সঙ্গে। এভারকেয়ার হাসপাতালে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত খালেদা জিয়ার পাশ ছাড়েননি ফাতেমা। কোনো বক্তব্য নেই, নেই কোনো দাবি—শুধু নিঃশব্দ উপস্থিতি।

ফাতেমা বেগম প্রমাণ করেছেন—সব সম্পর্ক ক্ষমতার নয়। কিছু সম্পর্ক গড়ে ওঠে দায়িত্ব, মানবিকতা আর নিঃশব্দ ভালোবাসায়। রাজনীতির কোলাহলের ভিড়ে তিনি এক নীরব নাম, কিন্তু সেই নীরবতাই তাকে ইতিহাসে আলাদা করে চিহ্নিত করে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ CHD News 24 - সাথে থাকুন পাশে আছি
ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট আইটি নগর