| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

ষোলশহর স্টেশনের চাঁদাবাজির কর্তা এখন অস্ত্র শাখায়!

রিপোর্টারের নামঃ
  • আপডেট টাইম : 15-10-2025 ইং
  • 205060 বার পঠিত
ষোলশহর স্টেশনের চাঁদাবাজির কর্তা এখন অস্ত্র শাখায়!
ছবির ক্যাপশন: অভিযোগ সত্ত্বেও আনোয়ারকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়ন

চট্টগ্রাম রেলওয়ের বিতর্কিত আরএনবি হাবিলদার আনোয়ারের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো সম্প্রতি তাকে চট্টগ্রাম স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র শাখায় পদায়ন করা হয়েছে।

রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, আনোয়ার বর্তমানে অস্ত্র শাখার দায়িত্ব পেয়ে আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এর আগেও ষোলশহর স্টেশন এলাকায় নিয়মিত চাঁদা আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছিল। বিভিন্ন সময় তার অনিয়ম ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।


স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকরা অভিযোগ করেন, আনোয়ার দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন ও আশেপাশের এলাকায় নিজের প্রভাব ব্যবহার করে নানা খাত থেকে চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিলেন। তিনি ষোলশহরের বিদ্যুৎ স্টেশনের কাছে চা দোকান বসিয়ে সেখান থেকে মাসে তিন হাজার টাকা আদায় করতেন। প্লাটফর্মের দশটি অবৈধ দোকানের সামনের চেয়ার-টেবিল বসানো বাবদ মাসে পাঁচ হাজার টাকা নিতেন। স্টেশনের পশ্চিমে বাজার বসিয়ে মাসে ৩০ হাজার টাকা এবং স্টেশনের প্রবেশ মুখের হকার ও ভাসমান দোকান থেকেও মাসে ৩০ হাজার টাকা আদায় করতেন।

টাকার বিনিময়ে স্টেশন এলাকায় রিক্সা ও ভ্যান রাখার ব্যবস্থা করিয়ে তিনি মাসে ছয় হাজার টাকা নিতেন। দুই নম্বর গেট এলাকায় এক লাখ টাকার বিনিময়ে একটি দোতলা দোকান তৈরিতে সহযোগিতা করেছিলেন। একই গেটের হকার ও বাজার থেকে দৈনিক এক হাজার টাকা, মুরাদপুর ক্রসিংয়ের পাশের বাজার থেকে দৈনিক পাঁচশ টাকা এবং ষোলশহর স্টেশনের চারটি নার্সারি থেকেও মাসে দুই হাজার টাকা আদায় করতেন। এছাড়া, স্টেশন ও আশেপাশের ছোট-বড় প্রায় দশটি জুয়ার আসর থেকেও তার মাসে লাখ টাকা ইনকাম হতো। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আসামি ধরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। 

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে আনোয়ার দীর্ঘদিন স্টেশন ও আশেপাশের এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন।

সর্বশেষ ষোলশহর স্টেশনের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার আরিফ হোসেনও তার কার্যক্রমে অতিষ্ঠ হয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক এবং আরএনবি চিফ কমান্ড্যান্টসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, আনোয়ারের কর্মকাণ্ড রেলওয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করছে এবং কর্মপরিবেশকে বিপন্ন করছে।

কিন্তু অভিযোগের পরও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগের তিন দিনের মাথায় পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের বিদেশ সফরের সময় তাকে চট্টগ্রাম স্টেশনের অস্ত্র শাখায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছে।

এই বিষয়ে জানতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ কমান্ড্যান্ট আশাবুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সুবক্তিগীণের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে হোয়াটসঅ্যাপে বিস্তারিত তথ্য পাঠানোর অনুরোধ করেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

বিষয়টি নিয়ে আরএনবি সদস্যদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, আনোয়ারের মতো বিতর্কিত সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে চাঁদাবাজি ও অনিয়মের সংস্কৃতি রেলওয়ে এলাকায় অব্যাহত থাকবে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ CHD News 24 - সাথে থাকুন পাশে আছি
ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট আইটি নগর