চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন শীতার্ত মানুষের সহায়তায় সমাজের বিত্তবান শ্রেণি, রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠন এবং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শীত শুধু একটি মৌসুমি সমস্যা নয়—শীতবস্ত্রের অভাবে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান। এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে নগরীর ঐতিহ্যবাহী জমিয়তুল ফালাহ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মরত শ্রমিকদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন। এ সময় নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের ৪১০ জন পরিচ্ছন্ন কর্মীর হাতে শীতকালীন পোশাক তুলে দেন তিনি।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, পর্যায়ক্রমে সিটি কর্পোরেশনের পরিচালন বিভাগের প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিকের সবাইকে শীতবস্ত্র প্রদান করা হবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে যারা নীরবে ও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের জীবনমান উন্নয়ন ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
পরিচ্ছন্ন কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “পরিচ্ছন্নতা শুধু পেশাগত দায়িত্ব নয়, এটি দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও আন্তরিকতার প্রকাশ। পরিচ্ছন্ন কর্মীরাই নগর ব্যবস্থাপনার নীরব সৈনিক—তাদের শ্রমের ফলেই নগরবাসী একটি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাচ্ছে।”
শীতার্ত জনগোষ্ঠীর জন্য চলমান কর্মসূচির কথা তুলে ধরে মেয়র জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে চার লক্ষ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, যার মাধ্যমে নিম্নআয়ের মানুষ স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারছেন। এছাড়া বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি মানবিক ও দরিদ্রবান্ধব নগরীতে রূপান্তরের কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, “আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিরাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করছি। সমাজের বিত্তবানদের অনুরোধ করবো—আপনারাও এগিয়ে আসুন, শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান।”
অনুষ্ঠান শেষে মেয়র নিজ হাতে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। শীতবস্ত্র পেয়ে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নগরকে আরও পরিচ্ছন্ন রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, মেয়রের একান্ত সহকারী জিয়াউর রহমান জিয়া, মারুফুল হক চৌধুরী (মারুফ)সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
| ফজর | ৪:০৯ - ৫:২৮ ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১১:৫৯ - ৪:৩১ দুপুর |
| আছর | ৪:৩২ - ৬:২৫ বিকাল |
| মাগরিব | ৬:২৭ - ৭:৪৫ সন্ধ্যা |
| এশা | ৭:৪৬ - ৪:০৮ রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |